সন্ধ্যা ৬টায় ডাক্তার বসবেন। রোগীরা আসতে শুরু করেন বিকেল ৩টা থেকে, কারণ কেউ জানেন না তার পালা কখন আসবে। ছোট্ট ওয়েটিং রুমে ত্রিশ-চল্লিশ জন, বাচ্চা কাঁদছে, বয়স্ক মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। অ্যাসিস্ট্যান্ট একহাতে ফোন ধরছেন, আরেক হাতে খাতায় নাম লিখছেন।
এই ছবিটা প্রায় সব চেম্বারের। সমস্যাটা ডাক্তারের সময়ের না, তথ্যের। রোগী জানেন না কখন আসবেন, তাই আগে এসে বসে থাকেন।
সিরিয়াল দেওয়ার একটাই পথ রাখুন
অনেক চেম্বারে সিরিয়াল আসে তিন জায়গা থেকে: অ্যাসিস্ট্যান্টের ফোন, কাউন্টারের খাতা আর পরিচিতদের সরাসরি অনুরোধ। ফলে একই নম্বর দুজনকে দেওয়া হয়, কেউ বাদ পড়েন, ঝগড়া হয়।
সব সিরিয়াল এক জায়গায় তুলুন। ফোনে এলেও, কাউন্টারে এলেও, একই তালিকায়।
রোগীকে জানান এখন কত নম্বর চলছে
রোগী যদি বাসা থেকে জানতে পারেন "এখন ১২ নম্বর চলছে, আপনার ১৮", তাহলে তিনি ঘণ্টা তিনেক আগে এসে বসে থাকবেন না। এই একটা তথ্যই ওয়েটিং রুমের ভিড় সবচেয়ে বেশি কমায়।
সহজ উপায় হলো একটা লাইভ লিংক, যেটা খুললে চলতি সিরিয়াল দেখা যায়। আরো ভালো হয় যদি পালা কাছে এলে রোগীর ফোনে নিজে থেকেই খবর যায়।
দেরি হলে সবাইকে একসাথে জানান
ডাক্তার ওটিতে আটকে গেছেন, বা আজ বসছেন না। এখন অ্যাসিস্ট্যান্টকে পঞ্চাশ জনকে একে একে ফোন করতে হয়, অথবা রোগীরা এসে ফিরে যান।
একটা চাপে সবাইকে মেসেজ পাঠানোর ব্যবস্থা থাকলে এই পুরো ঝামেলা থাকে না।
সাধারণ ফোনের রোগীদের কথা ভুলবেন না
সব রোগীর স্মার্টফোন নেই, অনেকের আছে শুধু বাটন ফোন। সিরিয়াল ব্যবস্থা যেন SMS-এও কাজ করে, আর অ্যাসিস্ট্যান্ট যেন কাউন্টার থেকেও তাদের নাম তুলতে পারেন।
রোগীর আগের কাগজ হাতের কাছে রাখুন
ফলো-আপ রোগী এলে আগের প্রেসক্রিপশন আর রিপোর্ট খুঁজতে সময় যায়। রোগীর রেকর্ড এক জায়গায় থাকলে ডাক্তার ডাকার আগেই দেখে নিতে পারেন, প্রতিটা ভিজিট কয়েক মিনিট ছোট হয়।
MediQ কীভাবে এটা করে
MediQ আমরা বানিয়েছি এই সমস্যার জন্যই:
- রোগী চেম্বারের QR স্ক্যান করে, লিংক খুলে বা একটা SMS পাঠিয়ে সিরিয়াল নেন।
- বাসা থেকেই দেখেন এখন কত নম্বর চলছে আর তার আগে কতজন, পালা কাছে এলে ফোনে খবর যায়।
- ডাক্তার "দেরি হবে" বা "আজ বসছি না" চাপলে সব রোগী push আর SMS-এ খবর পান।
- রোগীর প্রেসক্রিপশন আর রিপোর্ট এক জায়গায় থাকে।
ছোট থেকে শুরু করুন
প্রথম দিন থেকেই সব বদলানোর দরকার নেই। এক সপ্তাহ শুধু চলতি সিরিয়াল রোগীদের দেখানো শুরু করুন। ওয়েটিং রুমে পার্থক্যটা নিজেই চোখে পড়বে।
শান্ত ওয়েটিং রুম মানে খুশি রোগী, কম চাপের অ্যাসিস্ট্যান্ট, আর ডাক্তারের হাতে বেশি মনোযোগ।



